বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আজকের
এই অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি, উপস্থিত বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম। পানি আগ্রাসন
সম্পর্কে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা হয়েছে এবং দুজন এক্সপার্ট ডঃ এস আই খান ও প্রফেসর আখতার
হোসেন 'কি ক্ষতি হচ্ছে' বিস্তারিত ভাবে বলেছেন। আমরা এগুলো বিস্তারিত ভাবে জেনেছি।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে কেন ভারত এভাবে
আমাদেরকে পানি থেকে বঞ্চিত করছে? তার উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য কি এ সম্পর্কে কবি আল মুজাহিদী
কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আমরা ইতিহাসে যা দেখি ১৯৪৭ সালে যখন
দেশ ভাগ হচ্ছিল, ভারতবর্ষ ভাগ হচ্ছিল নেহেরু তখন আপত্তি করেছিলেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন
কানে কানে তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, তোমরা যদি এমন একটা পলিসি কোনদিন নিতে পারো
তখন দেখবে সমস্থ ভারতবর্ষ আবার একত্রিত হয়ে যাবে এবং তোমাদের অধিনস্ত হবে।
সে প্রস্তাব নেহেরুর খুবই পছন্দ হয়েছিল
এবং এই প্রস্তাবকে সামনে রেখে ভারত তার সমস্ত্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। আর পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে বিভিন্ন ধারা তার মধ্যে পানিবণ্টন একটি। সেটির ধারাবাহিকতায়
ভারত বাংলাদেশকে পানি থেকে বঞ্চিত করে আসছে।
এটার চেয়ে আরো একটি বড় পরিকল্পনা হচ্ছে
পলিটিক্যাল বা আমি বলবো আর্মড ফোর্সেস সম্পর্কীয়। আপনারা জানেন যে, ১৯৭২ সালের পর থেকে
এখানে রক্ষীবাহিনী পোষা হচ্ছিল, যাদের প্রশিক্ষন দিচ্ছিল ভারত সরকার। ১৯৭৫ সালে ভারতের
পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাবাহিনীকে ভেঙ্গে দিয়ে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত
করা। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে এবং যেভাবেই হোক সেটা থেকে আমরা নিস্তার পেয়েছি, যা আর
পরে সম্ভব হয়নি। এর পরের পরিকল্পনা হলো, আপনারা রৌমারির ঘটনা অনেকে জানেন। রৌমারির
মহানায়ক জেনারেল ফজলুর রহমান এখানে উপস্থিত আছেন, উনি বিস্তারিত ভাবে এ সম্পর্কে বলতে
পারবেন। ভারত চেষ্টা করেছে একটা অঞ্চলকে দখল করে নিয়ে পরবর্তীতে আরও বাদবাকী এলাকা
দখল করে নেওয়া। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি তৎকালীন বিডিআরএ যারা ছিলেন তাদের জন্য। এর
পরের পরিকল্পনা হচ্ছে এখানে কিভাবে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়, যারা তাদের অনুগত
হয়ে কাজ করবে। এবং আপনারা সিকিমের ঘটনা নিশ্চয় জানেন। প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতির কথা
জানেন। কিভাবে এ ধরনের দূর্নীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে প্রস্তাব
পাশ করে, ভারতের অংশ করে নিবে এমন একটি লোক তারা খুঁজছিলো এবং তারা সেটা পেয়েও গেছে।
তার পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে এই পিলখানার
ঘটনা। পিলখানার ঘটনা আজকে আমাদের কাছে পরিস্কার, কারা করিয়েছে, কেন করিয়েছে এবং সেনাবাহিনী
প্রধান কেন বলেছেন ওখানে বাহিনী পৌঁছতে দুই ঘন্টা লাগবে। যারা সেনাবাহিনী সম্পর্কে
সামান্য জানেন তারাও বলবেন সেনাবাহিনী ওখানে পৌঁছতে পাঁচ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়।
যখন সেনাপ্রধান দুই ঘন্টা বলছেন তখন সেনাবাহিনী বি ডি আর এর গেটে উপস্থিত হয়েছে, তারপরও
কেন বলা হচ্ছে দুঘন্টা। তাই এগুলো সবাই বুঝতে পেরেছেন। এ ঘটনায় ভারতের উদ্দেশ্য ছিল
সেনাবাহিনীকে দূর্বল করে দেওয়া। এবং সেনাবাহিনী দিয়ে বি ডি আর কে যে প্রশিক্ষন দেওয়া
হয়, সেই সেনাবাহিনীকে ভারতে নিয়ে প্রশিক্ষন দেওয়ার কথা আমরা জেনারেল ফজলুর রহমানের
মুখে শুনেছি। আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, আমাদের সাবেক সেনাবাহিনীর জেনারেলরা সঠিক তথ্য
দিচ্ছেন।
এই বাহিনীকে নিয়ে যদি ভারতে প্রশিক্ষন
দেওয়া হয় তাহলে এই বাহিনী দিয়ে ভারতকে রোখা সম্ভব হবে না। এ কারণে আমি মনে করি যে ভারত
একটি সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। কিভাবে বাংলাদেশকে কব্জা করা যায়?
এ ধরনের দুর্নীতিবাজদেরকেই বসিয়ে থ্রি ফোর্থ মেজরিটি অর্জন করা যায়। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক
যোগ সাজশেই এদেশে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
অতএব তারা তাদের পারপাস সার্ভ করবে
এতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এদেশে দুইটা পার্টিই ক্ষমতায়
আসে, একটা হলো বি এন পি, আরেকটা আওয়ামী লীগ। একটা পুরো বাংলাদেশী এবং আরেকটি পরিষ্কারভাবে
দেখা যাচ্ছে বিদেশী একটা সরকার আসছে। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ
না হলে এ বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ বিদেশে ব্যাপক
প্রচার প্রচারনা চালাতে হবে ভারতের এ পানি আগ্রাসনের বিরদ্ধে। জাতিসংঘ সহ অন্যান্য
আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরতে হবে আমাদের বক্তব্য ও দাবী। সবাইকে ধন্যবাদ।
সাবেক ভিসি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া
সুত্র: সম্পাদনা- এস সাজজাদ হোসেন
